মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ঈশা খাঁ বাড়ি

ঈশা খাঁ'র রাজধানী জঙ্গলবাড়ীঃ  

বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁ'র দ্বিতীয় রাজধানী ছিল জঙ্গলবাড়ী যা বর্তমানে করিমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৫ কি:মি: পশ্চিমে কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের অন্তর্গত। জানা যায় একাদশ শতাব্দীতে জোঙ্গাল বলাহুর নামক একজন রাজা স্বাধীন ভাটি রাজ্য কায়েম করে এর রাজধানী স্থাপন করেছিল জঙ্গলবাড়ীতে। ঈশা খাঁ জঙ্গলবাড়ীর দূর্গ অধিকারের পূর্বে সেখানে কুচ রাজাগণ শাসন করতেন। ১৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে ঈশা খাঁ শাহবাজ খান কর্তৃক পরাজিত হয়ে সমুদ্র পথে চট্টগ্রাম চলে যান এবং সেখানে সেনাদল গঠন করে আবার পূর্ববঙ্গে ফিরে আসেন। তারপর জঙ্গলবাড়ী এসে কুচরাজা লক্ষণ হাজোকে পরাজিত করে জঙ্গলবাড়ী অধিকার করেন। দূর্গটি দখলের পর তিনি দূর্গের সংস্কার সাধন এবং তিনদিকে পরিখা খনন করে নরসুন্দা নদীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে দূর্গটিকে গোলাকার দ্বীপের আকার দেন। দূর্গটির অভ্যন্তরে ছিল অসংখ্য ইমারত। বাংলা ১৩২৬ সনের ভূমিকম্পে দূর্গটির সকল ইমারত ধ্বংসহয়ে গেলেও ঈশা খাঁ'র দরবার হল,বসত ঘর ও একটি মসজিদ আজও কোনরকমে টিকে আছে। প্রায় সম্পূর্ণ ভগ্ন দূর্গ প্রাচীর,মসজিদের সামনের পুকুর,পুকুর পাড়ে বাঁধানো দেয়াল ইত্যাদি পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধ বিগ্রহ করে ঈশা খাঁ এখানে অবস্থান করেই রাজ্য পরিচালনা করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর বংশধরগণের একটি অংশ জঙ্গলবাড়ীতে বসবাস করছেন।

ঈশাখাঁ' মসজিদঃ

ঈশা খাঁ'র স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়ীতে একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। শিলালিপি না থাকার কারণে নির্মাণকাল জানা সম্ভব হয়নি। মসজিদটি তিনটি বড় বড় গম্বুজ বিশিষ্ট। দেয়ালপ্রায় চার ফুট প্রশস্ত। আয়তকার এ মসজিদের চারকোণে চারটি সুদৃশ্য মিনার রয়েছে। বাহিরের দিক থেকে মসজিদটি ৪৪ ফুট দীর্ঘ ও ১৮ ফুট প্রশস্ত। পূর্ব পার্শ্বে ১১ ফুট খোলা বারান্দা রয়েছে। মুসল্লিগণ মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন।

ঈশাখাঁ স্মৃতি জাদুঘরঃ

ইতিহাস খ্যাত ঈশা খাঁ'র বাড়ী দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত হতে অনেক লোক আগমন করেন। কিন্তু আগুন্তকদের বসার কিংবা তথ্য দেয়ার কোন ব্যবস্থা ইতিপূর্বে ছিলনা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈশা খাঁ'র বাড়ীর জরাজীর্ণ বৈঠক ঘরটি মেরামত ও সংস্কার করে "ঈশা খাঁ স্মৃতি জাদুঘর" হিসেবে রূপান্তর করা হয়েছে। এ জাদুঘরে একটি পাঠাগারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈশা খাঁ'র স্মৃতি বিজরিত বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করে এ জাদুঘরটি পূর্ণরূপ দেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন